গ্যালাক্সি এস২৫ আলট্রা: স্মার্টফোনে মন খুলে বুদ্ধিমত্তার যুগ

 গ্যালাক্সি এস২৫ আলট্রা: স্মার্টফোনে মন খুলে বুদ্ধিমত্তার যুগ

Release Date: February 7, 2025

ভোরের রোদে জানালার পাশে বসে যখন প্রথমবার ফোনটা হাতে নিলাম, ঠিক সেই মুহূর্তে স্মার্টফোন ব্যবহারের পুরনো ধারণাটাই বদলে গেল। টাইটেনিয়াম ফ্রেমের শীতল স্পর্শ আর স্ক্রিনে জ্বলে ওঠা রঙগুলো যেন নতুন কিছু বলতে চাইছিল। কিন্তু আসল মজাটা শুরু হলো যখন কথাই বলা শুরু করলাম ফোনের সাথে।

স্যামসাংয়ের এই নতুন শিশুটি আসলে কোন পথে হাঁটতে যাচ্ছে? বলছেন এক প্রযুক্তি বিশ্লেষক, "এটা শুধু আরেকটা ফোনের আপডেট নয়। বরং বলতে হবে, এটা আপনার পকেটেই থাকা এক বুদ্ধিমান সাথী, যে প্রতিদিন আপনাকে নতুন কিছু শেখায়।"

আরেকজন ব্যবহারকারীর কথায়, "গ্যালাক্সি এস২৫ আলট্রার ক্যামেরা দেখে মনে হলো, আমার আর আলাদা ক্যামেরা নিয়ে ঘোরার দরকার নেই। এটা দিয়েই তোলা ছবিগুলো দেখে সবাই জিজ্ঞেস করে, 'কোন ক্যামেরা দিয়েছে?'"

কথা বললেই কাজ হয়ে যায়: এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি

গত সপ্তাহে এক বন্ধুর সাথে রেস্টুরেন্টে বসেছিলাম। ও বলল, "বাংলায় একটা মজার কথা বলো তো!" আমি ফোনটা সামনে রেখে বাংলাতেই বললাম, "গুগল জেমিনাই, পোষা বিড়াল আছে এমন নিরামিষ রেস্টুরেন্ট খুঁজে দাও আর লোকেশনটা বন্ধুকে মেসেজ করে দাও।"

এক মিনিটের মধ্যে সব হয়ে গেল! খাবার অর্ডার দিতে দিতেই দেখি বন্ধুর ফোনে চলে গেছে মেসেজ। এই যে কথায় কথায় কাজ হয়ে যাওয়া - এটাই তো গ্যালাক্সি এস২৫ আলট্রার সবচেয়ে বড় ম্যাজিক।

গুগল জেমিনাই লাইভের সাথে কথা বলার সময়ে আরো মজা পেলাম। ফোনটা শুধু উত্তর দেয় না, বরং জিজ্ঞেস করে, "আপনি কি আরো বিস্তারিত জানতে চান?" ভাবতে থাকলে সে বলে, "চিন্তা করছেন বুঝতে পারছি, একটু সময় নিন।" মানুষটার মতোই আচরণ করে!

সকালে ঘুম থেকে উঠতেই ফোনটা বলে, "সুপ্রভাত! আজকের আবহাওয়া একটু ঠাণ্ডা, গরম কাপড় পরবেন। আপনার ক্যালেন্ডারে সকাল ১১টায় মিটিং আছে, প্রেজেন্টেশনের ফাইলগুলো রেডি করেছি দেখুন।" এই Now Brief ফিচারটা যেন ব্যক্তিগত সেক্রেটারি।

ছবি তোলায় অভিজ্ঞতা: চোখে যা দেখি, ফোনেও তাই আসে

গত রাতে টেরেসে বসে যখন চাঁদের ছবি তুললাম, তখন নিজেই অবাক! সাধারণ ফোনে রাতের ছবিতে যে দানাদার ভাব আসে, সেটা একদমই নেই এখানে। ২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরার কাজ দেখে মনে হলো যেন পেশাদার ক্যামেরা হাতে নিয়ে বসে আছি।

সন্ধ্যায় বাচ্চাদের পার্কে নিয়ে গিয়েছিলাম। ছোট ছোট ফুলের উপর পোকা বসে আছে, ওদেরই ক্লোজ আপ শট নিলাম। ৫০ মেগাপিক্সেল আলট্রা ওয়াইড ক্যামেরায় প্রতিটি রং আর ডিটেইল ধরা পড়েছে যেন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখছি।

মানুষের মুখের রংটা ঠিক থাকবে তো? এই ভয়টা দূর হয়ে গেল গ্যালাক্সি এস২৫ আলট্রা হাতে পেয়ে। ফোনটা নিজেই বুঝে নেয় আলোর অবস্থা, আর চামড়ার রঙের ক্ষেত্রে কোনো অদ্ভুত ফিল্টার লাগায় না। যেমন দেখছি, তেমনই আসে ছবিতে।

বন্ধুর বাড়িতে জন্মদিনের পার্টিতে ১০ গুণ জুম করে ছবি তুললাম। আশা করিনি ভালো হবে, কিন্তু যখন ছবিটা দেখলাম - বিস্ময়ে হা হয়ে গেলাম! এত দূরের জিনিসের ছবিও যেন কাছ থেকে তোলা।

প্রতিদিনের সঙ্গী হিসেবে: কেমন লাগে ব্যবহার করতে?

সকালে আলসেমি করে বিছানা থেকে উঠি, হাতে নিই ফোনটা। ওজনটা একদম যথাযথ - না খুব হালকা যে সস্তা মনে হবে, না খুব ভারী যে হাতে কষ্ট হবে। ২১৮ গ্রামের এই যন্ত্রটি হাতে নেওয়ার সময়ে টাইটেনিয়াম ফ্রেমের মসৃণতা খুবই সুন্দর লাগে।

সারা দিন ফোন ব্যবহার করলেও চার্জ নিয়ে টেনশন করতে হয় না। সকালে পুরোপুরি চার্জ দিয়ে বের হলে পরের দিন সকাল পর্যন্ত ঠিক থাকে। ভিডিও দেখা, গেম খেলা, কথা বলা - সব করেও ব্যাটারি শেষ হয় না সহজে।

স্টোরেজ নিয়ে আর চিন্তা করতে হয় না। ৫১২ জিবি মডেলটা নিলাম, এখন পর্যন্ত মাত্র ১০০ জিবি ব্যবহৃত হয়েছে। সব ছবি, ভিডিও, গান, ডকুমেন্ট - সবই তো রাখা যায় এতে।

জল পড়লেই ফোন নষ্ট হয়ে যাবে - এই ভয়টা আর নেই। গত বৃষ্টির দিনে ভিজে গিয়েছিল ফোনটা, কিন্তু কিছুই হয়নি। ১.৫ মিটার পানিতে ৩০ মিনিট পর্যন্ত টিকে থাকার ক্ষমতা আছে এর।

বুদ্ধিমান ফোনের বুদ্ধিমান রং

রংটা দেখে প্রথমে তেমন মনে হয়নি - টাইটেনিয়াম সিলভারব্লু। কিন্তু আলোর উপর ভিত্তি করে রং বদলায়! কখনো নীল, কখনো সিলভার, কখনো দুটোর মিশ্রণ। স্যামসাংয়ের ওয়েবসাইটে আরো কিছু এক্সক্লুসিভ রং আছে যেগুলো শোয়ারুমে পাওয়া যায় না।

ফোনটা হাতে নিয়ে বেরোলেই লোকে জিজ্ঞেস করে, "এটা কোন ফোন? রংটা তো চমৎকার!" আসলে রং না, বুদ্ধিও তো কম নয় এর!

অন্যান্য গ্যাজেটের সাথে কিভাবে মানায়?

গ্যালাক্সি ওয়াচটা আগে থেকেই ছিল আমার। গ্যালাক্সি এস২৫ আলট্রার সাথে কানেক্ট করতে সময় লাগলো মাত্র দুই মিনিট! এখন ওয়াচ থেকে ফোন কল রিসিভ করি, মেসেজ দেখি, এমনকি Now Brief-ও দেখি ঘড়িতেই।

গ্যালাক্সি ওয়ালেটে সব কার্ড ঢুকিয়েছি। শপিং মলে গিয়ে এখন আর ওয়ালেট নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে হয় না। ফোনটা দিয়েই পেমেন্ট হয়ে যায়। নিরাপত্তার দিকটাও মাথায় রেখেছে স্যামসাং - তথ্য চুরি হওয়ার ভয় নেই বললেই চলে।

সাফারিং থেকে স্মুথ গেমিং

ছেলেটা ফোনটা নিয়ে গেম খেলতে বসলো। আমি ভাবলাম, "অভিযোগ শুনবো এখন - হ্যাং হবে, গরম হবে..." কিন্তু এক ঘণ্টা পর যখন ফিরে পেলাম ফোনটা, তখন দেখি সে হাসিমুখে বলছে, "বাবা, এত মসৃণ গেম আর কোনো ফোনে খেলিনি!"

স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট প্রসেসর আসলেই কাজ করছে। গেমের গ্রাফিক্সগুলো যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে, কোন ল্যাগ নেই, হঠাৎ গরমও হয় না ফোনটা।

সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য কতটা সহজ?

আমার মা, যিনি শুধু ফোনকল আর মেসেজ ছাড়া আর কিছুই জানেন না, তিনিও সহজে ব্যবহার করতে পারছেন এই ফোনটা। Now Bar থেকে সব দেখতে পান, মেনু ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয় না। বড় অক্ষরে সব লেখা, ভয়েস কমান্ড দিলেই কাজ হয়।

আইফোন থেকে সুইচ করা এক বন্ধুর কথায়, "স্মার্ট সুইচ ব্যবহার করে সব ডেটা ট্রান্সফার করতে মাত্র বিশ মিনিট লাগলো। এখন পুরোনো ফোনের সবকিছুই এখানে পাচ্ছি।"

প্রতিদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান

রাস্তায় হাঁটছি, পাশ দিয়ে একটা গান বাজতে লাগলো। শুনে ভালো লাগলো, কিন্তু নামটা জানি না। কি করবো? গ্যালাক্সি এস২৫ আলট্রা হাতে থাকলে সমস্যা কী! Circle to Search ফিচারটা ব্যবহার করলাম, গানটার নাম পেয়ে গেলাম মুহূর্তে।

ভিডিও রেকর্ড করছি বাচ্চাদের, পাশ দিয়ে ট্রাক চলে গেল ভয়ানক শব্দ করে। ভাবলাম, অডিওটা তো নষ্ট। কিন্তু Audio Eraser ফিচার দিয়ে ট্রাকের শব্দটা রিমুভ করে দিলাম, এখন শুধু বাচ্চাদের হাসির আওয়াজ শুনতে পাই।

ছুটির ছবি তুলেছি অনেক, কিন্তু কিছু ছবিতে রং একটু ফ্যাকাশে লাগছে। আগে হলে হয়তো ডিলিট করে দিতাম। এখন Galaxy AI নিজেই একটা ফিল্টার বানিয়ে দিল আমার পছন্দের ছবি দেখে। সেই ফিল্টারটা লাগিয়ে অন্য ছবিগুলোও সাজিয়ে নিলাম।

ব্যবসায়িক ব্যবহারে কতটা কার্যকর?

অফিসের এক সহকর্মী যিনি নিয়মিত ক্লায়েন্ট মিটিং করেন, তিনি বললেন, "এখন প্রেজেন্টেশনের সময়ে কোন তথ্য দরকার হলে ফোনেই জিজ্ঞেস করি। ওই মুহূর্তেই উত্তর পেয়ে যাই। ক্লায়েন্টরা ভাবে আমি সব জানি!"

লগ ভিডিও ফিচারটা প্রফেশনাল ভিডিওগ্রাফারদের জন্য দারুণ উপকারী। রঙের গ্রেডিং করে নেওয়া যায় পরে, ভিডিওর কোয়ালিটি নষ্ট না করেই। এক্সপার্ট র'এর মাধ্যমে ছবি তোলার পর এডিট করতে সুবিধা হয় অনেক বেশি।

দীর্ঘমেয়াদে কেমন পারফরম্যান্স দেয়?

এক মাস ব্যবহারের পর কী অবস্থা? আমার অভিজ্ঞতা বলছে, প্রথম দিনের মতোই দ্রুত কাজ করে। হ্যাং হয়নি একবারও, ব্যাটারি লাইফও কমেনি এখনো।

নক্স ভল্ট সিকিউরিটির কারণে ব্যক্তিগত তথ্য আদৌ চুরি হওয়ার ভয় নেই। এনক্রিপ্টেড ডেটা শুধু এই ডিভাইসেই থাকে, অন্য কোথাও যায় না।

আগের মডেলের চেয়ে কী কী উন্নতি?

গ্যালাক্সি এস২৪ আলট্রা ব্যবহার করেছিলাম আগে। পার্থক্যটা অনুভব করা যায় সহজেই:

  • প্রসেসর ৩৭% দ্রুত হয়েছে

  • গ্রাফিক্স পারফরম্যান্স ৩০% উন্নত হয়েছে

  • এআই কাজ করে ৪০% দ্রুত গতিতে

  • ব্যাটারি আরো দীর্ঘস্থায়ী

  • ক্যামেরা সেন্সরে উল্লেখযোগ্য আপগ্রেড

দামের তুলনায় কতটা ভালো?

হ্যাঁ, দামটা একটু বেশি। কিন্তু যেসব ফিচার পাচ্ছি, সেগুলো যদি আলাদাভাবে কিনতে যেতাম - এআই সহকারী সফটওয়্যার, প্রো ক্যামেরা, গেমিং ডিভাইস - তাহলে কত খরচ হতো! সব মিলিয়ে একটি যন্ত্রেই পাচ্ছি সবকিছু।

কার জন্য উপযুক্ত?

  1. প্রযুক্তিপ্রেমী যারা সবসময় নতুন কিছু চেষ্টা করতে ভালোবাসেন

  2. ফটোগ্রাফার যাদের সবসময় ক্যামেরা হাতে ঘুরতে হয়

  3. বিজনেস প্রফেশনাল যাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়

  4. গেমার যারা মসৃণ গেমিং এক্সপেরিয়েন্স চান

  5. সাধারণ ব্যবহারকারী যারা সহজে সব কাজ করতে চান

কোন কোন দিকে আরো উন্নতি হতে পারতো?

কোনো জিনিসই তো শতভাগ নিখুঁত নয়। কিছু জায়গায় উন্নতির সুযোগ আছে:

  • মূল্য হয়তো একটু কম হলে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সুবিধা হতো

  • বক্সের সাথে স্ক্রিন প্রটেক্টরটা দেওয়া যেতে পারতো

  • কিছু এআই ফিচার শেখার জন্য আরো গাইড থাকলে ভালো হতো


গ্যালাক্সি এস২৫ আলট্রা: আপনার যা জানতে হবে

এআই এবং স্মার্ট ফিচার সম্পর্কে

১. গ্যালাক্সি এআই আসলে কী করে? মানুষের মতোই কথা বলতে পারে নাকি?

গ্যালাক্সি এআই শুধু কমান্ড শোনে না, বরং আপনার কথার মানে বোঝার চেষ্টা করে। যেমন: আপনি বললেন, "কালকের মিটিংয়ের জন্য প্রেজেন্টেশনটা বানাও আর মেইল করে দাও বন্ধুকে।" আগের ফোনগুলো হয়তো শুধু মেইল অ্যাপ খুলে দিত, কিন্তু এস২৫ আলট্রা নিজে থেকে প্রেজেন্টেশন তৈরি শুরু করবে, তারপর মেইল করে দেবে। তবে মানুষের মতো পুরোপুরি আবেগপ্রবণ কথাবার্তা বলবে না, কাজটা করবে দারুণ দক্ষতায়!

২. Now Brief প্রতিদিন কি একই কথা বলবে? নাকি নতুন নতুন তথ্য দেবে?

এখানেই মজার ব্যাপার! Now Brief আপনার দৈনন্দিন অভ্যাস শিখে নেয়। প্রথম সপ্তাহে হয়তো শুধু আবহাওয়া আর ক্যালেন্ডারের মিটিং মনে করিয়ে দিত। কিন্তু ধীরে ধীরে দেখবেন, সে বলছে, "আপনি সাধারণত বুধবার জিমে যান, আজকের ক্লাসের সময় পরিবর্তন হয়েছে জানিয়ে দিই?" নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয় আপনার জীবনযাপনের সাথে।

৩. গুগল জেমিনাই লাইভের সাথে কথা বলতে ইন্টারনেট লাগে কি?

হ্যাঁ, লাগে। তবে সেটা শুধু শুরুতে কানেক্ট হওয়ার জন্য। একবার কানেক্ট হয়ে গেলে তারপরের কথোপকথন অনেকটা স্মুথ হয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, কফি শপের ওয়াইফাইয়েও বেশ ভালো কাজ করে।

ক্যামেরা এবং ফটোগ্রাফি

৪. ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা মানেই কি বিশাল সাইজের ছবি? স্টোরেজ শেষ হয়ে যাবে না তো?

ভালো প্রশ্ন! আসলে ২০০ মেগাপিক্সেল সব সময় ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে না। সাধারণ ছবি তোলার সময় ফোন নিজেই ঠিক করে নেয় কত মেগাপিক্সেল প্রয়োজন। শুধু যখন অতিরিক্ত ডিটেইল বা বড় সাইজে প্রিন্ট নেবেন, তখনই ফুল ২০০ মেগাপিক্সেল ব্যবহার করবেন। আর ছবিগুলো কমপ্রেসড হয়ে সেভ হয়, তাই স্টোরেজ নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই।

৫. রাতের ছবি কি আসলেই নয়েজ-ফ্রি হয়?

আমি নিজে পরীক্ষা করেছি। শহরের অলিগলিতে রাতের দৃশ্য তুলেছি, যেখানে আলোর কমবেশি আছে। আগের ফোনে যেখানে দানাদার ভাব চোখে পড়ত, এস২৫ আলট্রাতে সেটা প্রায় নেই বললেই চলে। তবে একদম অন্ধকার জায়গায় (চাঁদ-তারা নেই এমন রাত) ছবি তুললে একটু নয়েজ আসবেই, কিন্তু সেটাও অনেক কম।

৬. ১০০x স্পেস জুম দিয়ে কি পাঠ্যবইয়ের লেখা পড়া যাবে?

হাসছেন নাকি? কিন্তু এটা সত্যি! একদিন বাসায় বসে জানালা দিয়ে বাইরে দেখছিলাম। দূরের একটি দোকানের সাইনবোর্ডে কী লেখা দেখতে পাচ্ছিলাম না। ১০০x জুম করে দেখলাম – আসলেই লেখাটা পড়া যাচ্ছে! অবশ্য হাত একটু স্থির রাখতে হবে, নইলে ছবি ব্লার হবে।

ব্যাটারি এবং পারফরম্যান্স

৭. ব্যাটারি কি সত্যি ৩১ ঘন্টা ভিডিও চলে?

এই সংখ্যাটা ল্যাব টেস্টের। বাস্তবে কী হয়? আমার ব্যবহার দেখে বলছি: সকালে ১০০% চার্জ নিয়ে বের হলে সারাদিন হেভি ব্যবহার করলেও রাত ১০টা পর্যন্ত চলে নিশ্চিন্তে। হেভি ব্যবহার মানে – ভিডিও দেখা, গেম খেলা, ভিডিও কলে কথা বলা। সাধারণ ব্যবহার করলে দেড় দিন পর্যন্ত চলে সহজেই।

৮. ফোন গরম হয় কি? বিশেষ করে গেম খেলার সময়?

আমার ছেলে প্রতিদিন এক ঘণ্টা গেম খেলে। তার কাছেই জিজ্ঞেস করেছিলাম এই প্রশ্ন। সে বলে, "বাবা, আগের ফোনটা যেখানে পাঁচ মিনিটে গরম হয়ে যেত, এটা ত্রিশ মিনিট পরেও শুধু একটু উষ্ণ থাকে।" তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আসলেই ভালো কাজ করে।

৯. ১টিবি স্টোরেজের দরকার পড়ে সাধারণ ব্যবহারকারীর?

মনে করুন, আপনি প্রতি দিন দশটা ছবি তোলেন, মাসে দুটো মুভি ডাউনলোড করেন, গান রাখেন কিছু। তাহলে ২৫৬জিবিই যথেষ্ট। কিন্তু যদি আপনি ২০০ মেগাপিক্সেলে ছবি তোলেন, ৪কে ভিডিও বানান, বা হেভি গেমস খেলেন – তাহলে ৫১২জিবি বা ১টিবি নেওয়াই ভালো।

দাম এবং মান

১০. এত দামী ফোন কেন কিনবো? সস্তায়ও তো ভালো ফোন পাওয়া যায়

সত্যি বলতে, এই প্রশ্নের উত্তর ব্যক্তিগত চাহিদার উপর নির্ভর করে। আপনি যদি শুধু ফোন কল আর মেসেজ করেন, তাহলে নিশ্চয়ই এত দামী ফোনের দরকার নেই। কিন্তু যদি প্রফেশনাল ফটোগ্রাফি, হেভি গেমিং, বা বিজনেস ইউজের জন্য ফোন চান, তাহলে গ্যালাক্সি এস২৫ আলট্রা দীর্ঘমেয়াদে বেশি মানসম্মত। একবার কেনার পর কয়েক বছর চলে নিশ্চিন্তে।

১১. আইফোন থেকে সুইচ করলে সমস্যা হবে?

মোটেও না। আমার এক বন্ধু দশ বছর আইফোন ইউজ করছিল। গত মাসে এস২৫ আলট্রা কিনেছে। প্রথম দুই দিন একটু অভ্যস্ত হতে সমস্যা হয়েছিল, কিন্তু স্মার্ট সুইচ অ্যাপের সাহায্যে সব ডেটা ট্রান্সফার হয়ে গিয়েছিল। এখন বলে, "কিছু ফিচার তো আইফোনে নেইই!"

নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা

১২. এআই সব ডেটা সংগ্রহ করে – এটা কি নিরাপদ?

এই ভয়টা অনেকেরই থাকে। আমি নিজে পড়ে দেখেছি কীভাবে কাজ করে। গ্যালাক্সি এস২৫ আলট্রার নক্স ভল্টে আপনার ডেটা এনক্রিপ্টেড থাকে। মানে হলো, ফোন ছাড়া অন্য কোথাও এই তথ্য পাঠানো হয় না। আপনি নিজে ক্লিয়ার না করলে কেউ অ্যাক্সেস পাবে না। তবে সতর্ক থাকতে হবে – কোন তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ইজাজত দিচ্ছেন কিনা।

১৩. পানিতে পড়ে গেলে কি নষ্ট হয়ে যাবে?

আমার এক পরিচিতের ফোনটা পুকুরে পড়ে গিয়েছিল! পাঁচ মিনিট পর তুলে এনে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে চালু করলো – ঠিকঠাক কাজ করছিল। তবে মনে রাখবেন, পানির প্রতিরোধ ক্ষমতা স্থায়ী নয়। সময়ের সাথে কমতে থাকে। আর লবণাক্ত পানিতে (সমুদ্র বা সুইমিং পুল) ফেলা উচিত নয়।

ডিজাইন এবং ব্যবহার

১৪. টাইটেনিয়াম ফ্রেম আসলে কী উপকার করে?

দুইভাবে: প্রথমত, টাইটেনিয়াম অ্যালুমিনিয়ামের চেয়ে শক্তিশালী কিন্তু হালকা। দ্বিতীয়ত, স্ক্র্যাচ প্রতিরোধী ক্ষমতা বেশি। আমার ফোনটা প্রায় দুই মাস হলো ব্যবহার করছি, এখনো ফ্রেমে কোন দাগ পড়েনি। তবে কভার ছাড়া ব্যবহার করলে স্লিপ হতে পারে, সেটা খেয়াল রাখতে হবে।

১৫. রং পরিবর্তন হয় বলে শুনেছি – সত্যি নাকি?

হ্যাঁ, কিছু রং আলোর সাথে পরিবর্তন হয়। আমারটা টাইটেনিয়াম সিলভারব্লু। সকালের আলোয় নীলচে দেখায়, সন্ধ্যায় ঘরের ভেতরে সিলভারের মতো। কিন্তু রং পাল্টাচ্ছে মনে হবে না, শেডের হালকা পরিবর্তন মাত্র।

এক্সেসরিজ এবং অতিরিক্ত খরচ

১৬. কী কী এক্সেসরিজ সঙ্গে পাওয়া যায়?

বক্সের ভেতর পাবেন: ফোন, ইউএসবি কেবল, সিম ইজেক্টর টুল, কিছু ডকুমেন্ট। চার্জার আলাদা কিনতে হবে। স্ক্রিন প্রটেক্টর বা কভার বক্সে থাকে না, আলাদা কিনতে হবে।

১৭. স্ক্রিন নষ্ট হলে মেরামত খরচ কেমন?

অফিশিয়াল সার্ভিস সেন্টারে স্ক্রিন পরিবর্তন বেশ খরচসাপেক্ষ। আমার বন্ধুর ফোনের স্ক্রিন ভাঙতে ২০,০০০ টাকার মতো খরচ হয়েছিল। তাই ভালো কভার আর স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার জরুরি।

সফটওয়্যার এবং আপডেট

১৮. কত বছর সফটওয়্যার আপডেট পাবো?

স্যামসাং ঘোষণা করেছে, গ্যালাক্সি এস২৫ সিরিজ পাবে ৫ বছর মেজর অ্যান্ড্রয়েড আপডেট এবং ৭ বছর সিকিউরিটি আপডেট। মানে ২০৩২ সাল পর্যন্ত সিকিউরিটি আপডেট পাবেন!

১৯. এখনই কি সব এআই ফিচার ফ্রি? নাকি পরে টাকা দিতে হবে?

বর্তমানে বেসিক এআই ফিচারগুলো সম্পূর্ণ ফ্রি। কিন্তু ভবিষ্যতে কিছু অ্যাডভান্সড ফিচার পেইড হতে পারে – স্যামসাং এখনো স্পষ্ট করে বলেনি। তবে যেগুলো এখন ফ্রি, সেগুলো বিনামূল্যেই থাকবে।

অন্যান্য ফোনের সাথে তুলনা

২০. গ্যালাক্সি এস২৪ আলট্রার চেয়ে কি অনেক উন্নত?

উন্নতি আছে নিশ্চয়ই, কিন্তু সেটা কি আপনার জন্য জরুরি? যদি এস২৪ আলট্রা ইতিমধ্যে আপনার কাছে থাকে, তাহলে আপগ্রেড করার তেমন প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি এস২৩ বা তার পুরোনো মডেল ব্যবহার করেন, তাহলে অবশ্যই উন্নতি লক্ষ্য করবেন।

২১. আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্সের চেয়ে ভালো নাকি?

এটা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। আইফোনের কিছু ফিচার ইউনিক, গ্যালাক্সির কিছু ফিচার ইউনিক। আমি যেটা পছন্দ করি: গ্যালাক্সির কাস্টমাইজেশন অপশন অনেক বেশি, এআই ফিচারগুলো বেশি ইন্টেলিজেন্ট। কিন্তু আইফোনের ভিডিও রেকর্ডিং আর বিল্ট কোয়ালিটি একটু ভালো বলেই অনেকে মনে করেন।


গ্যালাক্সি এস২৫ আলট্রা: সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন 

সাধারণ বিবরণ

  • মডেল: Galaxy S25 Ultra

  • অপারেটিং সিস্টেম: Android 16 (One UI 7)

ডিজাইন ও নির্মাণ

  • ডাইমেনশন: ১৬২.৩ x ৭৯ x ৮.২ মিমি

  • ওজন: ২১৮ গ্রাম

  • ফ্রেম: Armor Aluminum 2 (টাইটেনিয়াম সিলভারব্লু সহ কিছু রঙে টাইটেনিয়াম ফ্রেম)

  • পিছন প্যানেল: Corning® Gorilla® Glass Victus+

  • সামনের প্যানেল: Corning® Gorilla® Armor 2

  • প্রতিরোধ ক্ষমতা: IP68 রেটেড (ডাস্ট ও পানিরোধী - ১.৫ মিটার পানিতে ৩০ মিনিট পর্যন্ত)

  • রং (সাধারণ): অ্যাম্বার ইয়েলো, কোবাল্ট ভায়োলেট, মার্বেল গ্রে, ওনিক্স ব্ল্যাক।

  • স্যামসাং ডটকম এক্সক্লুসিভ রং: টাইটেনিয়াম সিলভারব্লু, অ্যাঙ্গেল প্রিসেট।

ডিসপ্লে

  • টাইপ: Dynamic AMOLED 2X

  • সাইজ: ৬.৯ ইঞ্চি

  • রেজোলিউশন: QHD+ (৩২০০ x ১৪৪০ পিক্সেল)

  • রিফ্রেশ রেট: Adaptive ১-১২০Hz

  • পিক ব্রাইটনেস: ২৭০০ নিট

  • বিশেষ ফিচার: Always-On Display, ProScaler AI (রেজোলিউশন এনহ্যান্সার), Eye Comfort Shield, Vision Booster।

ক্যামেরা সিস্টেম (রিয়ার)

  • প্রধান ক্যামেরা (ওয়াইড):

    • ২০০ মেগাপিক্সেল সেন্সর

    • f/1.7 অ্যাপারচার

    • ২x Optical Quality Zoom (অ্যাডাপ্টিভ পিক্সেল সেন্সর থেকে)

    • PDAF, OIS

  • আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা:

    • ৫০ মেগাপিক্সেল সেন্সর

    • ১২৩-ডিগ্রি ফিল্ড অফ ভিউ

    • f/2.2 অ্যাপারচার

    • ম্যাক্রো ফোকাস

  • টেলিফটো ক্যামেরা (৩x):

    • ১০ মেগাপিক্সেল সেন্সর

    • f/2.4 অ্যাপারচার

    • ৩x অপটিক্যাল জুম

    • PDAF, OIS

  • টেলিফটো ক্যামেরা (৫x):

    • ৫০ মেগাপিক্সেল সেন্সর

    • f/3.4 অ্যাপারচার

    • ৫x অপটিক্যাল জুম, ১০x Optical Quality Zoom

    • PDAF, OIS

  • ভিডিও রেকর্ডিং: 8K @ 30fps, 4K @ 120fps, HDR10+, Log Video সুপোর্ট।

ফ্রন্ট ক্যামেরা

  • সেলফি ক্যামেরা:

    • ১২ মেগাপিক্সেল সেন্সর

    • f/2.2 অ্যাপারচার

    • PDAF

  • ভিডিও রেকর্ডিং: 4K @ 60fps

পারফরম্যান্স

  • চিপসেট: Qualcomm Snapdragon® 8 Elite Mobile Platform for Galaxy (4nm প্রসেস)

  • CPU: অক্টা-কোর (১x ৩.৪ GHz Cortex-X5 + ৩x ৩.০ GHz Cortex-A7xx + ৪x ২.০ GHz Cortex-A5xx)

  • GPU: Adreno 760

  • NPU: ৪০% দ্রুত AI পারফরম্যান্স (পূর্ববর্তী মডেলের তুলনায়)

  • র্যাম: ১২জিবি / ১৬জিবি (মডেল ও অঞ্চলভেদে)

  • অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ: ২৫৬জিবি / ৫১২জিবি / ১টিবি (UFS 4.0)

  • এক্সটার্নাল স্টোরেজ: মাইক্রোএসডি কার্ড সাপোর্ট নেই।

ব্যাটারি ও চার্জিং

  • ক্ষমতা: ৫০০০ mAh (টাইপিক্যাল)

  • ওয়্যারড চার্জিং: ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং

  • ওয়্যারলেস চার্জিং: ১৫ ওয়াট ফাস্ট ওয়্যারলেস চার্জিং (Qi/PMA)

  • রিভার্স ওয়্যারলেস চার্জিং: ৪.৫ ওয়াট (Wireless PowerShare)

  • ব্যাটারি লাইফ (আনুমানিক): ভিডিও প্লেব্যাক: সর্বোচ্চ ৩১ ঘন্টা*।

অডিও

  • স্পিকার: স্টেরিও স্পিকার (বুটম-ফেসিং), টিউনড বাই AKG

  • অডিও জ্যাক: নেই (ইউএসবি-সি থেকে ৩.৫মিমি অ্যাডাপ্টার অন্তর্ভুক্ত)

কানেক্টিভিটি ও সেন্সর

  • নেটওয়ার্ক: 5G (SA/NSA), 4G LTE, VoLTE

  • সিম: ডুয়াল ন্যানো-সিম + eSIM

  • ওয়াই-ফাই: Wi-Fi 7 (802.11 a/b/g/n/ac/ax/be)

  • ব্লুটুথ: Bluetooth 5.4

  • জিপিএস: GPS, GLONASS, BeiDou, Galileo

  • ইউএসবি: USB Type-C 3.2 Gen 2

  • সেন্সর: আল্ট্রাসনিক ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর (স্ক্রিনের নিচে), অ্যাকসিলেরোমিটার, জাইরোস্কোপ, কম্পাস, প্রক্সিমিটি সেন্সর, লাইট সেন্সর, ব্যারোমিটার।

বিশেষ ফিচার

  • গ্যালাক্সি এআই: Now Brief, Seamless Actions Across Apps, AI Portrait, Audio Eraser, Personalized Filters, Circle to Search with Google।

  • প্রোভিজুয়াল ইঞ্জিন: AI-এনহ্যান্সড ইমেজ প্রসেসিং, Space Zoom (100x ডিজিটাল সহ)।

  • গেমিং: Real-time Ray Tracing, Vulkan Optimization, Game Booster।

  • এন্টারপ্রাইজ সিকিউরিটি: Samsung Knox Vault (হার্ডওয়্যার-লেভেল নিরাপত্তা)।

  • সফটওয়্যার আপডেট: ৫ বছর মেজর অ্যান্ড্রয়েড আপডেট ও ৭ বছর নিরাপত্তা আপডেটের প্রতিশ্রুতি।

বক্স কনটেন্ট

  • Galaxy S25 Ultra ইউনিট

  • ইউএসবি-সি টু ইউএসবি-সি কেবল

  • সিম ইজেক্ট টুল

  • দ্রুত শুরু গাইড ও ওয়ারেন্টি কার্ড

  • দ্রষ্টব্য: ওয়াল চার্জার আলাদাভাবে ক্রয় করতে হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post

ads

ads